বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

প্রত্যাহার ৩০৫, চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১৯৬৭ প্রার্থী, প্রতীক বরাদ্দ আজ: কাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধি ॥
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ডামাডোল শুরু হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে গতকাল অনেক নাটকীয়তার পর চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে টিকে রইলেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাছাইয়ে বৈধ ঘোষিত প্রার্থী এবং আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্য থেকে গতকাল ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে আজ (২১ জানুয়ারী ২০২৬) প্রতীক বরাদ্দের পর আগামীকাল (২২ জানুয়ারী ২০২৬) থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নামছেন ভোট প্রার্থনায়। আগামী তিন সপ্তাহ পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এই জাতীয় নির্বাচন।

এক নজরে নির্বাচনি পরিসংখ্যান:
চূড়ান্ত প্রার্থী: ১,৯৬৭ জন, বাছাইয়ে বৈধ: ১,৮৫৮ জন, আপিল থেকে ফেরা: ৪৩১ জন, প্রত্যাহার: ৩০৫ জন ও বাতিল মনোনয়নপত্র: ৭২৬ জন।

গতকাল প্রত্যাহারের শেষ দিনে মূলত জোটগত সমঝোতা ও নির্বাচনি কৌশলের কারণে অনেক প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে যারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে ছিলেন, তাদের অনেকেই দলের মূল প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র তুলে নিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে সরগরম ভোটের মাঠ
ঢাকা বিভাগের ২০টি সংসদীয় আসনে গতকাল ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিস ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রয়েছেন। তবে ঢাকার কোনো আসন থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

ঢাকা-৫ থেকে ৪ জন, ঢাকা-৯ ও ১০ থেকে ২ জন করে এবং ঢাকা-১৮ আসন থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে ঢাকা-৮, ১১ ও ১৪ আসনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় আগের বৈধ প্রার্থীরাই লড়াইয়ে থাকছেন। ঢাকা-৮ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসসহ ১১ জন এবং ঢাকা-১৪ আসনে ১২ জন প্রার্থী একে অপরের মোকাবিলা করবেন।

সারাদেশের জেলাভিত্তিক চিত্র
চট্টগ্রাম ও বরিশাল: চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১২ জন প্রত্যাহারের পর এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১১১ জন। বরিশালে ৬টি আসনে ৭ জন প্রত্যাহার করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর সম্মানে জামায়াত প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

রাজশাহী ও রংপুর: রাজশাহীতে ৩ জন প্রত্যাহারের পর মাঠে আছেন ২৯ জন। রংপুরে ৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, যাদের অধিকাংশই খেলাফত মজলিস ও এনসিপির।

খুলনা ও বাগেরহাট: খুলনার ৬টি আসনে ৫ জন প্রত্যাহারের পর ৩৮ জন প্রার্থী টিকে আছেন। বাগেরহাটে ৪টি আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রত্যাহার করেছেন, যার মধ্যে বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের প্রভাবশালী নেতারা রয়েছেন।

গোপালগঞ্জ ও টাঙ্গাইল: গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে ২৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় আছেন। এখানে ৭ জন প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে জামায়াতসহ ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন, ফলে এখানে ৪টি আসনে প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

অন্যান্য জেলা: দিনাজপুরে ৫ জন প্রত্যাহারের পর ৪০ জন, গাজীপুরে ৮ জন প্রত্যাহারের পর ৪২ জন, এবং হবিগঞ্জে ৪ জন প্রত্যাহারের পর ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। এছাড়া রাঙামাটি, রাজবাড়ী ও লক্ষ্মীপুরেও জোটের স্বার্থে বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

আজ বুধবার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক হাতে পাওয়ার পরপরই দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com